বালুরঘাট, ১৯ সেপ্টেম্বর —— বালুরঘাট শহরে দুর্গাপুজো-পরবর্তী কার্নিভাল ঘিরে জমে উঠেছে জল্পনা। শুক্রবার বিকেলে পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্রকে সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ট্রাফিক দপ্তরের আধিকারিকরা শহরের সম্ভাব্য বিকল্প জায়গা ঘুরে দেখেন। এতদিন ধরে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরেই আয়োজন হতো এই বর্ণাঢ্য উৎসব। কিন্তু যানজট, হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা ও ভিড় সামলানোয় প্রশাসনের চরম হিমশিমের কারণে এ বছর কার্নিভালের আসর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।
এদিন প্রশাসনের নজর গিয়ে থামে মঙ্গলপুর এলাকার ট্রাক টার্মিনাসের সামনে। হিলি রুটের বাস চলাচল সেখান থেকে স্বাভাবিক রেখে এই রুটে অনুষ্ঠান করা সম্ভব বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। জেলা শাসক বিজিন কৃষ্ণা জানান, আগামী ৪ অক্টোবর কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে। তবে জায়গা চূড়ান্ত করতে যৌথভাবে পর্যবেক্ষণ চলছে।
জেলাশাসকের যে মন্তব্যের পরেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত পরিদর্শনে নামে প্রশাসনের কর্মকর্তারা। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র, সদর ডিএসপি বিক্রম প্রসাদ, ট্রাফিক ডিএসপি বিল্বমঙ্গল সাহা, মহকুমা শাসক সুব্রত বর্মন প্রমুখ।
প্রশাসনের একাংশের মতে, মঙ্গলপুরে আয়োজন হলে শহরের মূল জাতীয় সড়ক যানজট থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবে। পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে। জেলা কংগ্রেস বরাবরই দাবি করে এসেছে, সার্কিট হাউসের সামনে জাতীয় সড়ক কার্নিভালের জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ জেলা হাসপাতালের পাশেই ওই ভেনু। তাদের আন্দোলনের জেরেই কি প্রশাসনের এই তৎপরতা—সেই প্রশ্নই এখন শহরবাসীর আলোচনায়।
তবে শুধু কার্নিভাল নয়, বিসর্জনের ব্যবস্থাপনাতেও এবার বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন। আত্রেয়ী নদীর সদর ঘাটে হাইড্রোলিক ট্রলার বসিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে যেমন সময় বাঁচবে, তেমনই দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে বলে কর্তৃপক্ষের মত।
পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র জানান, “মঙ্গলপুর এলাকার জায়গাটি সাধারণ মানুষের সুবিধাজনক এবং প্রশাসনের পক্ষেও উপযুক্ত মনে হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”
এখন দেখার, সত্যিই কি বদলাবে কার্নিভালের চেনা আসর, নাকি থেকে যাবে পুরনো জায়গাতেই—সেই উত্তর খুঁজছে গোটা বালুরঘাট।























