এসআইআর-এর আতঙ্কে মৃত্যু স্কুলের জন্য জমিদান করা তপনের জামলাবাদের এক বাসিন্দার
“অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে” সরগরম জেলা রাজনীতি
শীতল চক্রবর্তী তপন ১৪জানুয়ারি দক্ষিণ দিনাজপুর।
এলাকায় স্কুল গড়ে তোলার জন্য নিজের জমি দান করেছিলেন তিনি।অথচ সেই জমিদাতাকেই দেওয়া হয় এসআইআর (Special Intensive Revision)-এর নোটিশ। আর সেই নোটিশের শুনানিতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে মৃত্যু হল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের জামলাবাদ এলাকার এক বাসিন্দার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জেলার রাজনীতি।
মৃত ব্যক্তির নাম ফয়েজুদ্দিন সরকার,বয়স (৬৫)। তিনি তপন ব্লকের চন্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জামলাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।মঙ্গলবার বিকেলে তপন ব্লক প্রশাসনিক ভবনে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ,শুনানি শেষে বাড়ি ফেরার পথেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাঁকে তপন ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।পরে অবস্থার অবনতি হলে গঙ্গারামপুর মহকুমার কালদিঘি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতের পরিবার ও আত্মীয়দের অভিযোগ,এসআইআর-এর নোটিশ ও শুনানির আতঙ্কেই ফয়েজুদ্দিন সরকারের মৃত্যু হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফয়েজুদ্দিন সরকার একজন কৃষক ছিলেন। তাঁর পাড়াতেই ঢাইনগর উচ্চ বিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য বহু বছর আগে তিনি নিজের জমি দান করেছিলেন।সেই জমির উপরই বর্তমানে একটি সুবিশাল স্কুল ভবন গড়ে উঠেছে।পরিবারের দাবি,জমির সমস্ত বৈধ কাগজপত্র তাঁর কাছে থাকা সত্ত্বেও গত ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুর ২টা৩০ মিনিটে তাঁকে এসআইআর শুনানির নোটিশ দেওয়া হয় শুনানিতে হাজির থাকতে। তপন বিধানসভার ৪০নম্বর এলাকার অধীনে অংশ নম্বর জামলাবাদ স্কুলের ১০৯৫ নম্বর ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে বলে জানানো হয়।
মৃতের ভাইপো মাসুদ সরকার অভিযোগ করে বলেন,“কাকু স্কুলের জন্য জমি দান করেছিলেন।অথচ তাকেই এসআইআর-এর নোটিশ দেওয়া হল।হিয়ারিং থেকে ফিরে আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।এর জন্য বিজেপি ও তাদের সরকারের লোকজনই দায়ী।”
মৃতের এক আত্মীয় আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,“সংখ্যালঘু মানেই ২০০২সালের নাম নেই এই ধারণা থেকে ইচ্ছে করেই সংখ্যালঘুদের বেছে বেছে হয়রানি করছে বিজেপি ও তাদের পরিচালিত নির্বাচন কমিশন।হিয়ারিং থেকে ফেরার পথেই তাঁর অকাল মৃত্যু হয়েছে।”
এবিষয়ে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল অভিযোগ করে বলেন,“হিয়ারিং-এর নামে মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলা হচ্ছে।এই কারণেই এভাবে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।আমরা ওই পরিবারের পাশে আছি এবং বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হবে।”
অন্যদিকে,অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জেলা বিজেপি সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন,“এসআইআর চালু করার আগে হয়তো নির্বাচন কমিশনকে এমন কোনও পদ্ধতি চালু করতে হতো, যাতে কেউ মারা না যায়। এখন যেই মারা যাচ্ছেন, বলা হচ্ছে এসআইআর-এর আতঙ্কে মৃত্যু।কারও কাগজপত্র ঠিক থাকলে ভয় পাওয়ার কারণ নেই।”
এবিষয়ে পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের তরফে কোনও মন্তব্য না করা হয়নি। জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস জানিয়েছেন,“হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে ফয়েজুদ্দিন সরকারের মৃত্যু হয়েছে বলেই আমরা জানতে পেরেছি।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।


























