“এনাফ ইজ এনাফ”— কুশমন্ডির খাগড়াকুড়িতে মোদির গর্জন, ‘বদল চাই’-এর ডাকেই জনসমুদ্র

0
55

বালুরঘাট, ১১ এপ্রিল — প্রখর রোদ, তীব্র গরম—সবকিছুকে উপেক্ষা করে খাগড়াকুড়ি মাঠে মানুষের ঢল। সেই জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে কড়া ভাষায় তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ থেকে শুরু করে শিক্ষা ও চাকরি—প্রায় প্রতিটি ইস্যুতেই রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করে তাঁর বার্তা স্পষ্ট—“এনাফ ইজ এনাফ, আর নয়, এবার বদল চাই।”
শনিবার কুশমন্ডি বিধানসভার খাগড়াকুড়ি মাঠে বেলা তিনটে পনেরো নাগাদ হেলিকপ্টারে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে একঝলক দেখতে ও বক্তব্য শুনতে মাঠে উপচে পড়ে ভিড়। ভিড়ের চাপে প্যান্ডেলের বাইরে রোদে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষের কথা উল্লেখ করে মঞ্চে উঠেই আয়োজকদের হয়ে ক্ষমা চান তিনি। বলেন, “প্যান্ডেলের ভিতরের থেকে তিনগুণ মানুষ বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন—এই ভালোবাসা বৃথা যাবে না।”
মোদি দাবি করেন, তৃণমূল মানুষের মধ্যে ভয় ছড়িয়েছে, আর তিনি এসেছেন ভরসা দিতে। তাঁর কথায়, “টিএমসির ভয় এবার শেষ হবে, ঝুট আর লুট বন্ধ হবে।” ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর স্লোগানকে ‘মিথ্যা ও নাটক’ বলে কটাক্ষ করে তিনি অভিযোগ করেন, ১৫ বছরে রাজ্যে কোনও উন্নয়ন হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।
দুর্নীতির প্রসঙ্গে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার ফুটবলের প্রতিভাও সিন্ডিকেটের কবলে। “সরকারটাই সিন্ডিকেটের সরকার”—এই মন্তব্যে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। ‘মহা জঙ্গলরাজ’ চলছে বলেও দাবি করেন।
আর জি কর ইস্যু টেনে এনে মোদি বলেন, “যেভাবে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, সেভাবেই এই সরকারকে উৎখাত করতে হবে।” পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় আছে, কিন্তু ক্যাম্পাস নেই, স্থায়ী শিক্ষক নেই—এটাই দুর্নীতির প্রমাণ।
চাকরি ইস্যুতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর বক্তব্য, “যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে, চাকরির নামে লুট চলছে। একইসঙ্গে আশ্বাস দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সরকারি কর্মচারীরা সপ্তম পে কমিশনের সুবিধা পাবেন—“মোদি গ্যারান্টি।”
বক্তৃতার শেষে আসন্ন নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মানুষের আশীর্বাদ চান প্রধানমন্ত্রী। ৩৪ বছরের বাম শাসন ও ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারকে সুযোগ দেওয়ার পর এবার বিজেপিকে সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
খাগড়াকুড়ির এই জনসভা ঘিরে যে জনউচ্ছ্বাস দেখা গেল, তাতে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ যে চরমে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।