বালুরঘাট, ২০ জানুয়ারী —- বাচিক শিল্পী ও সঞ্চালক সঞ্জয় কর্মকারের রহস্যমৃত্যু ঘিরে উত্তাল বালুরঘাট। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সোমবার গ্রেফতার করা হল তাঁর স্ত্রী সুষমিতা সরকার ও শ্যালিকা তনুশ্রী সরকারকে। ধৃত দু’জনকে মঙ্গলবার বালুরঘাট জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। তবে এই ঘটনায় এখনও অধরা আশীষ সাহা ও বিকাশ সরকার নামে আরও দুই অভিযুক্ত। পাশাপাশি বোল্লার বাসিন্দা স্বপন তান্ত্রিক ও মধুসূদন দত্তের নামও উঠে এসেছে অভিযোগে।
মৃত সঞ্জয়ের কাকা পরিতোষ কর্মকারের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন বছর ৪৮-এর সঞ্জয়। অভিযোগ, স্ত্রী ও শ্যালিকার অত্যাচারে একাধিকবার বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এমনকি জুতোপেটা করে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল বলে দাবি। পরে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলেও, বোল্লার কয়েকজনের মাধ্যমে তাঁর উপর মানসিক চাপ আরও বাড়ানো হয়, যার জেরেই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন সঞ্জয়—এমনটাই অভিযোগ পরিবারের।
পেশায় আইনজীবী হলেও বাচিক শিল্পী ও সঞ্চালক হিসেবেই শহরে পরিচিত মুখ ছিলেন সঞ্জয়। শহরের সংকেতপাড়ায় তাঁর বাড়ি হলেও, বেশ কয়েক মাস ধরে পরিবার থেকে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে জানান স্থানীয়রা। সোমবার সন্ধ্যায় পতিরামের লক্ষ্মীপুরে তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বালুরঘাটের বাসিন্দারা। সোমবার রাতভর সংকেতপাড়া এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযুক্তদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের পর সঞ্জয়ের মরদেহ প্রথমে লক্ষ্মীপুরের বাড়ি, পরে তাঁর চেম্বার হয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জার্নালিস্টস ক্লাব প্রাঙ্গণে পৌঁছয়। সংস্কৃতির শহরে নেমে আসে শোকের ছায়া। ফুল, চোখের জল আর নীরবতায় প্রিয় সঞ্চালককে শেষ বিদায় জানান অসংখ্য মানুষ।
Home দক্ষিণ দিনাজপুর বালুরঘাট আত্মহত্যার প্ররোচনা! বালুরঘাটে আইনজীবির মৃত্যুতে শ্রীঘরে স্ত্রী ও শ্যালিকা, অধরা আরও দুই
























