বালুরঘাট, ৩১ মার্চ —– বালুরঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা ঘিরে এবার প্রকাশ্যে না এলেও দলের অন্দরে তৈরি হল অস্বস্তির সুর। মঙ্গলবার টাউনক্লাব মাঠে তৃণমূলের দুই প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ ও চিন্তামনি বিহার সমর্থনে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে ছাত্র, যুব, মহিলা ও শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে চোখে পড়ার মতোভাবেই অনুপস্থিত ছিলেন কৃষক ও সংখ্যালঘু সংগঠনের দুই জেলা সভাপতি—আর তাতেই শুরু হয়েছে জল্পনা।
দলের একাংশের মতে, বালুরঘাট ও তপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে যেখানে কৃষক ও সংখ্যালঘু সংগঠনের সংগঠনগত ভিত যথেষ্ট শক্তিশালী, সেখানে তাদের নেতৃত্বকে মঞ্চে স্থান না দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। এই বাছাই উপস্থিতি কি কেবলই সাংগঠনিক ত্রুটি, না কি অন্য কোনও বার্তা—তা নিয়েই চাপা গুঞ্জন ছড়িয়েছে কর্মী মহলে।
যদিও প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিতে নারাজ নেতৃত্বের একাংশ।
তৃণমূল সংখ্যালঘু সংগঠনের জেলা সভাপতি মাহাবুর সরকারের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি সভায় যোগ দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, জেলা কিষান খেত মজদুর সংগঠনের সভাপতি সাহেনশা মোল্লা খানিকটা ক্ষোভের সুরে বলেন, মঞ্চে ডাক পেলাম কি পেলাম না, সেটা বড় বিষয় নয়। আমরা সভায় উপস্থিত থেকে দলের বার্তা শুনেছি। লক্ষ্য একটাই—সব প্রার্থীকে জেতানো।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য এসেছে জেলা তৃণমূল সভাপতি সুভাষ ভাওয়ালের কাছ থেকে। তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, কারা মঞ্চে থাকবেন, তা নিয়ে তিনিও স্পষ্ট ধারণা পাননি। তাঁর কথায়, সম্ভবত কোনও ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে সবাইকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।
ঘটনাটি আপাতত ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে ব্যাখ্যা করা হলেও, ভোটের মুখে এই বার্তা দলীয় ঐক্যে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা তৃণমূলের অন্দরে।























