প্রোমোটারের প্রতারণায় ২৬ লক্ষের ফ্ল্যাট! প্রতিবন্ধী সরকারি কর্মীকে পুড়িয়ে মারার হুমকি, চাঞ্চল্য বালুরঘাটে
বালুরঘাট, ২৯ জুলাই —– ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন দেখেছিলেন স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে। জমিয়ে রেখেছিলেন সারা জীবনের সঞ্চয়। অথচ সব শেষ! ফ্ল্যাট কিনতেই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতারণার শিকার হলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শাসকের দপ্তরের হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট শ্যামল কৃষ্ণ হালদার। শুধু প্রতারণাই নয়—অভিযোগ, প্রতিবাদ করতেই এবার প্রাণনাশের হুমকিতে দিন কাটছে ওই সরকারি কর্মীর। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বালুরঘাট শহরে।
সূত্রের খবর, বালুরঘাট শহরের দিপালিনগর এলাকার ‘শুভলয়া কমপ্লেক্সে’ চলতি বছরের ৫ জুন ২৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনে রেজিস্ট্রি করান শ্যামলবাবু। ওই দিনই পরিবার নিয়ে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন ৬০ শতাংশ প্রতিবন্ধী এই সরকারি আধিকারিক। অভিযোগ, এরপরেই তিনি জানতে পারেন—যিনি ফ্ল্যাটটি বিক্রি করেছেন, সেই প্রোমোটার বিমলকৃষ্ণ সরকার ও তাঁর স্ত্রী ঝর্ণা সরকার, প্রকৃতপক্ষে ওই ফ্ল্যাটের মালিক নন! আরও অভিযোগ, জমির মালিক দেবব্রত সরকারকে অন্ধকারে রেখে ভুয়ো নথির মাধ্যমে ওই ফ্ল্যাট বিক্রি করেন ওই দম্পতি।
এখানেই শেষ নয়। শ্যামলবাবুর অভিযোগ, প্রতারণার প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার পরিবারকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেন প্রোমোটার। এমনকি বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত হয়রানির শিকার তিনি। অস্থায়ী মিটারে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের পরে স্থায়ী সংযোগের আবেদন জানাতেই বিদ্যুৎ দপ্তর তাঁকে ধরিয়ে দেয় তিন লক্ষ টাকার বিশাল বিদ্যুৎ বিল। অভিযোগ, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তা না মেটালে তাঁর স্ত্রীর নামে দায়ের হয় এফ আয়েরও।
অন্যদিকে, জমির প্রকৃত মালিক দেবব্রত সরকারও এনিয়ে থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন বিমলকৃষ্ণ সরকারের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, যেসব ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য তিনি পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিয়েছিলেন, ওই ফ্ল্যাট তার মধ্যে ছিল না। তাঁকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই বিক্রি করা হয়েছে ফ্ল্যাটটি।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শ্যামলবাবুর স্ত্রী মিনাক্ষী মণ্ডল হালদার। তাঁর কথায়, “এই মুহূর্তে আমরা চরম আতঙ্কে রয়েছি। পুলিশে অভিযোগ জানানোর পরই হুমকি আসছে।”
প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা সাব-রেজিস্ট্রার দীপাঞ্জন সাহা। তিনি বলেন, “আমি শুধুই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে। তবে প্রাথমিক তথ্যেই প্রতারণার অভিযোগ স্পষ্ট।”
এই ঘটনার পর বালুরঘাট শহর জুড়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। শহরের দিপালীনগরের শুভলয়া কমপ্লেক্সের অন্যান্য বাসিন্দারাও গভীর উদ্বেগে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কীভাবে রেজিস্ট্রি হল ভুয়ো মালিকের নামে? কিভাবেই বা একজন প্রতিবন্ধী সরকারি কর্মীর সঙ্গে এমন আচরণ করা হল?
প্রোমোটার বিমলকৃষ্ণ সরকারের যদিও এবিষয়ে মুখে কুলুপ। তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব—“আইনজীবীর পরামর্শ মতোই চলছি।”
এখন দেখার, প্রশাসন ও আদালতের হস্তক্ষেপে ঠিক কতটা সুবিচার পান শ্যামলবাবুর মতো সাধারণ ক্রেতারা।