কুমারগঞ্জে প্রধান নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অদুরদর্শিতা সামনে এল জেলা সভাপতির,পুলিশের সামনেই হাতাহাতি

0
361

কুমারগঞ্জে প্রধান নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অদুরদর্শিতা সামনে এল জেলা সভাপতির, পুলিশের সামনেই হাতাহাতি তে জড়ালেন তৃণমূল কর্মীরা

পিন্টু কুন্ডু , বালুরঘাট, ২৯সেপ্টেম্বর—         বোর্ড গঠন করলেও নিজের এলাকায় রাজনৈতিক অদূরদর্শিতায় মুখ পুড়ল তৃণমূল জেলা সভাপতির। কুমারগঞ্জের সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের ডাকা অনাস্থা ভোটের এদিন ছিল বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া। সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়েও এদিন পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছেন জেলা সভাপতি। বুধবার এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পঞ্চায়েতের ভিতরে পুলিশের সামনেই নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল কর্মীরা।যদিও আইসির নেতৃত্বে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ এলাকায় পৌছে স্বাভাবিক করে পরিস্থিতি। 
      সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্দল প্রধানের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ তুলে অনাস্থা আনে তৃণমূল। ৬ সেপ্টেম্বর  অনাস্থা ভোটের পরে এদিন নতুন প্রধান নির্বাচন ছিল। পঞ্চায়েতের দখল নিতে মরিয়া তৃণমূল মঙ্গলবার রাতেই তাদের নির্দেশিকা পঞ্চায়েত সদস্যদের জানায় বলে দলীয় সুত্রের খবর। বিজেপি ছেড়ে দেওয়া পঞ্চায়েত সদস্য জবা রায়ের নামকেই প্রধান হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় তাদের নির্দেশিকায় বলেও দলীয় সুত্রের খবর। আর যারপরে এদিন দুপুর ১২ টা থেকে চলা প্রধান নির্বাচনে  প্রায় তিন ঘণ্টা ভোটাভুটির পর তৃণমূল সদস্য রুনা লাইলা বেগমকে নতুন প্রধান নির্বাচন করা হয়। যিনি পঞ্চায়েতের ১৭ টি ভোটের মধ্যে ১৫ টি ভোটই পেয়ে যান তিনি। যাকে ঘিরেই সামনে এসেছে জেলা তৃণমূল সভাপতির কিছুটা রাজনৈতিক অদুরদর্শিতার চিত্র। খোদ জেলা সভাপতির খাস তালুকেই এমন ঘটনায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে দলের অন্দরেই। উল্লেখ্য, ১৭ আসন বিশিষ্ট ওই পঞ্চায়েতে বিজেপির আট সদস্য কে নিয়ে নির্দলের তিন সদস্য বোর্ড গঠন করে ২০১৮ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে। বামেরা একটি আসন পেলেও তৃণমূল মাত্র পাচটি আসন দখল করতে পারে। কিন্তু এরপরে নির্দল পঞ্চায়েত প্রধান জয়নুর বেউয়া চৌধুরীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে অনাস্থার ডাক দেয় তৃণমূল। যে নির্বাচনে বিজেপি এবং নির্দল সকলেই তৃণমূল প্রধান রুনা লাইলা বেগমকে সমর্থন করায় কার্যত অবাক হয়েছেন অনেকেই।
           জেলা তৃণমূল সভাপতি উজ্জ্বল বসাক বলেন, তাদের ভূমিকা খুবই নগন্য ছিল। কিন্তু একদিকে বিগত প্রধানের দুর্নীতি এবং তৃণমূলের উন্নয়নে সকলেই তৃণমূল কেই সমর্থন করেছে। 
       বিজেপির উপপ্রধান খায়রুল মোল্লা জানিয়েছেন, দুর্নীতি মুক্ত পঞ্চায়েত গড়তে এদিন তারা সকলে তৃণমূল কে ভোট দিয়েছেন। 

        নতুন প্রধান রুনা লাইলা বেগম জানিয়েছেন, সকলে তার উপর আস্থা রেখেছেন। তিনি উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন।
পঞ্চায়েত উন্নয়ন আধিকারিক উল্লাস ভট্টাচার্য বলেন, প্রধানের দাবিদার দুজন ছিল। রুনা লাইলা বেগম ১৫ টি ভোট পেলেও জবা রায় মাত্র দুটি ভোট পেয়েছে। 
বিদায়ী প্রধানের ছেলে হোচিমিন চৌধুরী বলেন, তৃণমূল তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনলেও বিশ্বাসঘাতক দের হঠাতে সকলে রুনা লাইলা বেগম কে ভোট দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here