বিধায়ক দেবেন্দ্র নাথ রায়ের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের দিন থেকে দোকান এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ফলে নিজের দোকান খুলতে না পেরে ব্যাবসা বন্ধ হয়ে প্রায় অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে

0
376

রায়গঞ্জ:—বন্ধ মোবাইলের দোকানের সামনে বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্র নাথ রায়ের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের দিন থেকে দোকান এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ফলে নিজের দোকান খুলতে না পেরে ব্যাবসা বন্ধ হয়ে প্রায় অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে হেমতাবাদের বালিয়ামোড় এলাকার বাসিন্দা ওই মোবাইল দোকানের ব্যাবসায়ী কুতুব আলিকে। এলাকার একমাত্র মোবাইল ও মোবাইল রিচার্জের দোকান হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় গ্রাহকেরাও। পুলিশ ও সি আই ডি দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনও সুরাহা হয়নি তাঁর। সি আই ডি তদন্তের স্বার্থে ওই দোকান এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। রুজি রুটি হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কুতুব আলি ও তাঁর পরিবার।

গত ১৩ ই জুলাই হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্র নাথ রায়ের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয় তাঁর বাড়ি থেকে দু কিলোমিটার দূরে বালিয়ামোড় এলাকায় স্থানীয় ব্যাবসায়ী কুতুব আলীর বন্ধ মোবাইলের দোকানের সামনে। বিজেপি বিধায়কের মৃত্যু নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়ে উঠেছে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিজেপির শীর্ষ নেতারা দফায় দফায় ওই এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি হেমতাবাদ থানার পুলিশ তদন্তের স্বার্থে কুতুব আলীর দোকান ব্যারিকেড করে ঘিরে রেখেছে। আর এতেই চরম বিপাকে পড়েছেন দোকানের মালিক ব্যাবসায়ী কুতুব আলি। করোনা আবহে এমনিতেই ব্যাবসায় মন্দা তারমধ্যে পুলিশ তাঁর দোকান আটকে ঘটনার তদন্ত করার কারনে তিনি তাঁর দোকান খুলতে পারছেন না। দোকান খুলতে না পারায় একদিকে যেমন তাঁর দোকানে থাকা মোবাইল ফোন সন অন্যান্য সামগ্রী আটকে রয়েছে তেমনি ব্যাবসাও বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে তাঁর। একমাত্র এই দোকানের মোবাইল ও ইলেকট্রিক সামগ্রী বিক্রি করেই সংসার প্রতিপালন হয় তাঁর। এমতাবস্থায় দোকান বন্ধ থাকায় উপার্জন হীন হয়ে পড়েছেন তিনি। সংসার প্রতিপালন করাই দুঃসাধ্য হয়ে গিয়েছে কুতুব আলীর। শুধু কুতুব আলিই নয় সমস্যায় পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও। দোকান বন্ধ থাকায় তাঁদের প্রয়োজনীয় মোবাইল ও মোবাইল সংক্রান্ত সামগ্রী কিনতে পারছেন না তাঁরা। ব্যাবসায়ী কুতুব আলি জানিয়েছেন, তাঁর দোকান খোলার জন্য হেমতাবাদ থানার পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন। হেমতাবাদ থানার পুলিশ জানিয়ে এই ঘটনার তদন্ত এখন সি আই ডি ‘র হাতে। কুতুব আলি রায়গঞ্জ কর্নজোড়ায় সি আই ডি দপ্তরেও গিয়েছিলেন কিন্তু দোকান খোলার ব্যাপারে কোনও কিছু জানাতে পারেনি কেউ। ফলে তদন্তের স্বার্থে পুলিশের ব্যারিকেড খুলে দিয়ে নিজের দোকানও খুলতে পারছেন না কুতুব আলি। এমতাবস্থায় চরম বিপাকে পড়ে দিন কাটাচ্ছেন বালিয়ামোড় এলাকার মোবাইল দোকানদার কুতুব আলী। প্রতিবেশী ব্যাবসায়ী সমিরুদ্দিন জানিয়েছেন, এখন গরমের সময় কুতুব আলির মোবাইলের পাশাপাশি ইলেক্ট্রিক ফ্যান বিক্রি ও মেরামতের সিজন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here