লকডাউনের জের, ঢিমেতালে হিলির আন্তর্জাতিক বহির্বাণিজ্য। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কয়েকশো লরি, সমস্যায় ট্রাক চালক-খালাসিরা।

0
351

পিন্টু কুন্ডু , বালুরঘাট, ২০ জুন—— লকডাউনের জের, ঢিমেতালে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। হিলিতে রাস্তায় দাড়িয়ে কয়েকশো মালবোঝাই লরি। চরম সমস্যায় দিন কাটছে দুর দুরান্ত থেকে আসা ট্রাক চালক ও খালাসিদের।করোনার সুরক্ষার একাধিক বিধিনিষেধ মানতেই মন্থর হয়েছে আমদানি-রপ্তানী বললেন হিলি এক্সপোর্ট এসোসিয়েশনের সম্পাদক।

হিলির আন্তর্জাতিক বানিজ্য বন্দরে আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক ছন্দে থাকলে প্রতিদিন এই বাণিজ্য কেন্দ্র দিয়ে প্রায় ২০০টির উপরে লরি যাতায়াত করে। কিন্তু লক ডাউনের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও নিরাপত্তার দিক মাথায় রেখে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যাতায়াতের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে গাড়ি চালক ও খালাসিদের। যার কারণে দিনে খুব বেশি হলে ওই বন্দর দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ টি গাড়ি মাল নিয়ে ওপারে যেতে পারছে। এমন পরিস্থিতিতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মালবোঝাই গাড়ির লম্বা লাইন পড়েছে হিলিতে। হিলি থেকে ঠাকুরপুরা পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে লম্বা লাইন দিয়ে রাস্তাতেই থাকতে হচ্ছে লরি চালক ও খালাসিদের। বাইরে থেকে আসা গাড়ির চালক-খালাসীরা আবার অনেকেই করোনার ভয়ে গাড়িতেই দিন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার রাস্তাতেই রান্না খাওয়া সারছেন। দিনের পর দিন রাস্তাতে এমনভাবে আটকে থাকার কারনে চরম সমস্যায় পড়ছেন লরি চালক ও খালাসিরা।

রাজস্থান থেকে আগত এক লরি চালক বিশ্রাম মিনা জানিয়েছেন, সোয়াবিন জাতীয় খাবার বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য এনেছিলেন। তবে প্রতিদিন অল্প সংখ্যক গাড়িকে ছাড় দেওয়ায় ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। আর যার জেরে খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা।

স্থানীয় এক লরি চালক গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, লোকাল গাড়ি হাওয়ায় তাদেরকে ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা হচ্ছে। স্যানিটাইজেশন সহ একাধিক প্রক্রিয়া মেনে বাংলাদেশের যেতে পারছেন তারা। গাড়ি ভরতি সরিষার খোল রয়েছে যেগুলি ওপারে নিয়ে যাবেন। এর আগে তেমন সমস্যা হয়নি, কিন্তু লকডাউনের জন্য দীর্ঘ ১০-১২ দিন রাস্তায় আটকে থাকায় খাবার ও অন্য কাজে সমস্যায় পড়ছেন তারা।

হিলি এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সনজিৎ মজুমদার জানিয়েছেন, লকডাউন সম্পূর্ণরূপে যতদিন না সমাপ্ত হচ্ছে ততদিন এই সমস্যা চলতে থাকবে। কেননা কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবেনা। অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিরপত্তার বিষয়গুলি দেখা হচ্ছে। স্যানিটেশনের প্রতিটি দিক সম্পন্ন করে তবেই ওপারে যেতে পারছে লরিগুলি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here